ইডি তল্লাশি কলকাতা: সাতসকালে বালিগঞ্জ ও কসবায় হানা, নির্মাণ সংস্থার অফিসে কোটি টাকার প্রতারণার খোঁজ

ভোটের মুখে ফের শহরে সক্রিয় ইডি! সাতসকালে বালিগঞ্জের অশ্বিনী দত্ত রোড এবং কসবায় একযোগে তল্লাশি অভিযান। কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণায় নাম জড়াল এক নির্মাণ সংস্থার।

ইডি তল্লাশি কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই শহরে ফের একবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আজ সাতসকালে বালিগঞ্জের মতো একটি অত্যন্ত অভিজাত এলাকায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই আচমকা হানা নিয়ে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, কোটি কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার একটি পুরনো অভিযোগের ভিত্তিতেই আজকের এই ইডি তল্লাশি কলকাতা-সহ শহরের বেশ কয়েকটি জায়গায় একযোগে শুরু হয়েছে। কোন সংস্থার অফিসে এবং কেন এই তল্লাশি, তা নিয়ে শহরবাসীর মনে ইতিমধ্যেই প্রবল কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

​সাতসকালে বালিগঞ্জ ও কসবায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আচমকা হানা ও কড়া নজরদারি

​ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যে বাংলায় অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে, আজকের ঘটনাটি তারই আরও একটি বড় প্রমাণ। গত এক সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার শহরে বড়সড় অভিযানে নামল ইডি। আজ একেবারে কাকভোরে বালিগঞ্জের অশ্বিনী দত্ত রোডে আচমকা হানা দেন ইডির গোয়েন্দারা। স্থানীয়রা কিছু বুঝে ওঠার আগেই গোটা এলাকাটি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং তদন্তকারী আধিকারিকদের কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়।

​জানা গিয়েছে, বালিগঞ্জের পাশাপাশি শহরের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কসবাতেও আজ সকাল থেকে একই সঙ্গে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। মূলত আর্থিক তছরুপ এবং জালিয়াতির অভিযোগের ভিত্তিতেই শহরের একাধিক জায়গায় এই চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই আচমকা ইডি তল্লাশি কলকাতা শহরের ব্যবসায়ী মহলে স্বাভাবিকভাবেই একটা বড়সড় আতঙ্কের আবহ তৈরি করেছে। সকাল থেকেই সাধারণ মানুষ ভিড় জমিয়েছেন ঘটনাস্থলের বাইরে, তবে নিরাপত্তারক্ষীরা কাউকেই তদন্ত চলাকালীন ওই নির্দিষ্ট বাড়িটির ধারেকাছে ঘেঁষতে দিচ্ছেন না।

​কোন সংস্থার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ এবং কেন এই অভিযান?

​বিশ্বস্ত সূত্র মারফত খবর পাওয়া গিয়েছে যে, আজকের এই অভিযান মূলত ‘সান এন্টারপ্রাইজ’ (Sun Enterprise) নামক একটি বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে। বালিগঞ্জের অশ্বিনী দত্ত রোডে অবস্থিত এই সংস্থার অফিসে সকাল সকাল পৌঁছলেও, প্রথমে ইডি আধিকারিকরা অফিসের ভেতরে ঢুকতে পারেননি। জানা গিয়েছে, এই সান এন্টারপ্রাইজ নামক সংস্থাটি মূলত নির্মাণ ব্যবসা বা রিয়েল এস্টেট সেক্টরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

​এই বেসরকারি নির্মাণকারী সংস্থাটির বিরুদ্ধে বেশ কয়েক কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা এবং জালিয়াতি করার এক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। সেই পুরনো মামলার সূত্র ধরেই আজ তাদের প্রধান অফিসে এই আকস্মিক হানা দিয়েছে ইডি। মজার বিষয় হলো, ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে এই সংস্থাটির হয়ে যারা সাক্ষী বা গ্যারান্টার ছিলেন, ইডি আধিকারিকরা আজ তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে সরাসরি সঙ্গে নিয়েই এই অভিযানে এসেছেন, যাতে একেবারে স্পটেই তাদের বয়ান এবং নথিপত্র মিলিয়ে দেখা যায়। এই ধরনের হাই-প্রোফাইল ইডি তল্লাশি কলকাতা শহরের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় সতর্কবার্তা।

অভিযানের স্থানঅভিযুক্ত সংস্থার নামব্যবসার ধরনমূল অভিযোগ
বালিগঞ্জ (অশ্বিনী দত্ত রোড)সান এন্টারপ্রাইজনির্মাণ ব্যবসা (Real Estate)কোটি কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা
কসবানির্দিষ্টভাবে জানা যায়নিঅজ্ঞাতআর্থিক লেনদেনে অসঙ্গতি

ভোটের মুখে বারবার কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা এবং গত সপ্তাহের ঘটনার পুনরাবৃত্তি

​শহরে ইডির এই তল্লাশি অভিযান আজ নতুন নয়, বরং এটি গত কয়েকদিন ধরে চলা ধারাবাহিক তদন্তেরই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ঠিক এক সপ্তাহ আগে, গত ২৮শে মার্চেও এই একই কায়দায় কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৭ থেকে ৮টি জায়গায় একযোগে বিশাল তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল ইডির গোয়েন্দাবাহিনী। সেই সময় জমি নিয়ে বড়সড় প্রজেক্ট করার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে প্রতারণা করার অভিযোগে একটি বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছিল তারা।

​গত সপ্তাহের সেই অভিযানে শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা জহরলাল নেহেরু রোডে এক বড় মাপের ব্যবসায়ীর সংস্থার অফিসেও দীর্ঘ সময় ধরে হানা দিয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। সেখানে ওই সংস্থার যাবতীয় আর্থিক লেনদেন, জমি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং বিভিন্ন প্রজেক্টে তাদের বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য অত্যন্ত নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছিল। বারবার এই ইডি তল্লাশি কলকাতা শহরের ব্যবসায়িক মহলে যে যথেষ্ট প্রভাব ফেলছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

​তদন্তের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি এবং নির্মাণকারী সংস্থাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া প্রশ্ন

​আজকের এই তল্লাশি অভিযান থেকে ঠিক কী কী গুরুত্বপূর্ণ নথি বা নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে, সে সম্পর্কে ইডির তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো বয়ান বা বিবৃতি দেওয়া হয়নি। যেহেতু অফিসের ভেতর ঢুকতে আধিকারিকদের কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে, তাই ভেতরে কোনো তথ্য প্রমাণ লোপাট করা হয়েছে কি না, সেদিকেও তদন্তকারীরা বিশেষ নজর রাখছেন। এই সান এন্টারপ্রাইজ নামক সংস্থাটি বাজার থেকে সাধারণ মানুষের কত টাকা তুলেছে এবং সেই টাকা কোথায় পাচার করা হয়েছে, মূলত সেই মানি ট্রেইল বা টাকার গতিপথ খোঁজাই এখন ইডির প্রধান লক্ষ্য।

​কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQs)

​আজ সকালে কলকাতার কোথায় কোথায় ইডি তল্লাশি চালিয়েছে?

​আজ কাকভোরে মূলত দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ এলাকার অশ্বিনী দত্ত রোডে একটি অফিসে ইডি আধিকারিকরা হানা দিয়েছেন। এছাড়া জানা গিয়েছে, বালিগঞ্জের পাশাপাশি কসবা এলাকাতেও আজ সকাল থেকে একই সঙ্গে তল্লাশি অভিযান চলছে।

​কোন সংস্থার বিরুদ্ধে ইডির এই হানা এবং তাদের ব্যবসার ধরন কী?

​বিশ্বস্ত সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ‘সান এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি বেসরকারি সংস্থার অফিসে আজ এই অভিযান চালানো হচ্ছে। এই নির্দিষ্ট সংস্থাটি মূলত নির্মাণ ব্যবসা বা রিয়েল এস্টেটের কাজের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে।

​এই সংস্থাটির বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে?

​সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই বেসরকারি নির্মাণ সংস্থাটির বিরুদ্ধে বাজার থেকে কয়েক কোটি টাকার বিশাল আর্থিক প্রতারণা করার একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এবং সেই মামলার ভিত্তিতেই আজকের এই তল্লাশি।

​এই অভিযানে কি ইডি আধিকারিকরা অন্য কাউকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন?

​হ্যাঁ, এই সংস্থার ব্যাংক লোনের ক্ষেত্রে যারা সাক্ষী হিসেবে ছিলেন, ইডি আধিকারিকরা আজ তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে নিজেদের সঙ্গেই এই অভিযানে নিয়ে এসেছেন, যাতে সরাসরি তাদের সামনে নথিপত্র যাচাই করা যায়।

​উপসংহার: আর্থিক জালিয়াতি রুখতে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই তৎপরতা কি সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেবে?

​পরিশেষে বলাই যায় যে, সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলে এবং রিয়েল এস্টেটের নামে যারা প্রতারণার ফাঁদ পাতে, তাদের বিরুদ্ধে ইডির এই ধরনের কড়া পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। বারবার এই ইডি তল্লাশি কলকাতা শহরের দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মনে যেমন ভয় ধরাচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষও আশা করছেন যে এই তদন্তের মাধ্যমে হয়তো প্রতারিত হওয়া অনেক মানুষ তাদের জমানো টাকা ফিরে পাবেন। তবে সামনেই যেহেতু নির্বাচন, তাই এই অভিযানের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়েও শহরের নানা মহলে কানাঘুষো আলোচনা চলছে।

Leave a Comment

Created with ❤
Exit mobile version