TMC Party Office: মেট্রোপলিটনে তৃণমূলের রাজ্য দফতর ছাড়ার নোটিস! মমতাকে সরাসরি ফোন মালিকের

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই বড়সড় চমক। ইএম বাইপাসের মেট্রোপলিটনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাড়া নেওয়া রাজ্য পার্টি অফিস আগামী ২ মাসের মধ্যে ছাড়ার নির্দেশ দিলেন ভবনের মালিক। সরাসরি ফোন গেল মমতার কাছে। জানুন বিস্তারিত।

নিজস্ব প্রতিবেদন, Bengal Job Study 0.2 : “মেট্রোপলিটনে তৃণমূলের রাজ্য দফতর ছাড়ার নির্দেশ! মমতাকে সরাসরি ফোন ভবনের মালিকের

​রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী থাকছে বঙ্গ রাজনীতি। এবার খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের অস্থায়ী রাজ্য সদর দফতর (পার্টি অফিস) ছাড়ার নির্দেশ এলো দলের কাছে। আর এই নির্দেশ অন্য কারও তরফ থেকে নয়, খোদ ভবনের মালিক সরাসরি ফোন করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে! আগামী দুই মাসের মধ্যে ইএম বাইপাস সংলগ্ন মেট্রোপলিটনের ওই ভাড়া নেওয়া কার্যালয় খালি করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে বর্তমানে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।

কেন মেট্রোপলিটনে পার্টি অফিস তৈরি করেছিল তৃণমূল?

​তৃণমূল কংগ্রেসের পুরনো এবং স্থায়ী রাজ্য সদর দফতর ছিল তপসিয়ার তৃণমূল ভবনে। কিন্তু দলের কলেবর বৃদ্ধি এবং আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে গত কয়েক বছর আগে সেই পুরনো ভবনটি ভেঙে একটি অত্যাধুনিক ‘কর্পোরেট স্টাইল’ ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পুরনো ভবন ভাঙা পড়ায় দলের রাজ্য স্তরের সমস্ত কাজকর্ম পরিচালনার জন্য একটি বিকল্প জায়গার প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

​সেই কারণেই ইএম বাইপাসের ধারে, মেট্রোপলিটন এলাকায় (বাইপাস ধাবার কাছে) ‘মডার্ন ডেকোরেটিং’-এর একটি বিশাল জায়গা এবং ভবন ভাড়া নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। গত প্রায় চার বছর ধরে এই ভাড়াবাড়ি থেকেই দলের সমস্ত কোর কমিটির মিটিং, মেগা প্রেস কনফারেন্স এবং শীর্ষ নেতৃত্বের যাবতীয় প্রশাসনিক কাজ পরিচালিত হয়ে আসছিল।

হঠাৎ কেন কার্যালয় ছাড়ার নোটিস?

​সূত্রের খবর, মডার্ন ডেকোরেটিং-এর মালিকের সাথে তৃণমূলের প্রাথমিকভাবে মাত্র ২ বছরের জন্য ওই ভবনটি ভাড়ার চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু তপসিয়ায় দলের নতুন ভবনের কাজ শেষ না হওয়ায়, পরবর্তীতে সেই চুক্তির সময়সীমা আরও ২ বছর বাড়ানো হয়। অর্থাৎ, মোট চার বছর ধরে তৃণমূল এই ভবনটিকে নিজেদের রাজ্য দফতর হিসেবে ব্যবহার করছে।

​কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ভবনের মালিক এবার আর কোনোভাবেই ভাড়ার মেয়াদ বাড়াতে রাজি নন। তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে আগামী দুই মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ পার্টি অফিসটি খালি করে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এই ঘটনার পেছনের মূল কারণগুলো কী কী?

​রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মালিকের এই পদক্ষেপের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে:

  • চুক্তির মেয়াদ শেষ: আইনিভাবে ভাড়ার চুক্তির সময়সীমা ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গিয়েছে।
  • ক্ষমতার হাতবদল: সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল হওয়ায় ভবনের মালিক এখন অনেক বেশি স্বাধীনভাবে তাঁর সম্পত্তির অধিকার দাবি করতে পারছেন, যা হয়তো আগের রাজনৈতিক আবহে সম্ভব ছিল না।
  • নতুন ভবনের কাজ: তৃণমূলের তপসিয়ার নতুন ভবনের কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে, তাই এখন ভাড়াবাড়ি ছেড়ে তাঁদের নিজেদের ভবনে ফিরে যাওয়াই যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছেন অনেকেই।

পরিশেষে: তৃণমূলের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?

​মাত্র দুই মাসের মধ্যে এত বড় একটি রাজ্য দফতর সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্যই যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। তবে তৃণমূল সূত্রের খবর, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই নোটিস পাওয়ার পর দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন। হয় তপসিয়ার নির্মীয়মাণ ভবনের কাজ দ্রুত শেষ করে সেখানে আংশিকভাবে কাজ শুরু করা হবে, নতুবা সাময়িকভাবে অন্য কোনো বিকল্প জায়গার সন্ধান করা হবে। আপাতত আগামী দুই মাসের মধ্যে মেট্রোপলিটনের এই হাই-প্রোফাইল পার্টি অফিসটি সত্যিই খালি হয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে গোটা বাংলার রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment

Created with ❤
Exit mobile version