Free Gas Cylinder: হোলির আগেই বড় উপহার! বিনামূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার দিচ্ছে সরকার, কারা পাবেন সুবিধা?
সামনেই রঙের উৎসব হোলি, আর এই আনন্দের মুহূর্তকে দ্বিগুণ করতে সরকার এক বিরাট ঘোষণা করেছে। উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের পকেটের চাপ কমাতে এবং দরিদ্র পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে বিনামূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই নতুন পদক্ষেপে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোতে খুশির হাওয়া বইছে। হোলির আগেই যাতে এই সুবিধা উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে যায়, তার জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
বিনামূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে সরকারের বড় ঘোষণা
দিল্লির সাধারণ মানুষের জন্য এই সুখবরটি নিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল হোলি নয়, দীপাবলিতেও এই সুবিধা পাওয়া যাবে। অর্থাৎ বছরে দুবার উৎসবের সময় সরকার দরিদ্র পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াবে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলোকে সরাসরি সাহায্য করা। মন্ত্রিসভায় পাস হওয়া এই প্রস্তাব অনুযায়ী, হোলি এবং দীপাবলিতে একটি করে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার সম্পূর্ণ ফ্রিতে দেওয়া হবে। এর জন্য সরকার প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বিশাল বাজেট বরাদ্দ করেছে, যা নিশ্চিত করবে যেন কোনো যোগ্য পরিবার এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়।
সরকারের এই সিদ্ধান্তটি মূলত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। ক্ষমতায় আসার প্রথম বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষেই এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পটির সূচনা করা হচ্ছে। রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বাজারে এই বিনামূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়ার খবরটি নিঃসন্দেহে উৎসবের প্রস্তুতির আমেজকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কাদের জন্য এই বিশেষ সুবিধা?
স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, সরকারের এই নতুন স্কিমের আওতায় কারা পড়বেন? দিল্লি সরকার স্পষ্ট করেছে যে, এই প্রকল্পটি মূলত সমাজের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণীর জন্য তৈরি করা হয়েছে। যাদের কাছে রেশন কার্ড রয়েছে এবং যারা গণবণ্টন ব্যবস্থার (Public Distribution System) অধীনে দরিদ্র শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত, তারাই কেবল এই সুবিধার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দিল্লিতে প্রায় ১৭.১৮ লক্ষ রেশন কার্ডধারী পরিবার রয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। সরকার ইতিমধ্যেই রেশন কার্ডের ডেটাবেস যাচাই করে যোগ্য সুবিধাভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করে ফেলেছে। যাদের নাম রেশন কার্ডের তালিকায় সঠিকভাবে নথিভুক্ত আছে এবং যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তাদের এই সুবিধা পেতে কোনো অতিরিক্ত বাধার মুখে পড়তে হবে না। সরকারের লক্ষ্য হলো সেইসব পরিবারের সুরাহা করা, যাদের মাসিক বাজেটের একটা বড় অংশ গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতেই খরচ হয়ে যায়।
প্রকল্পের একনজরে (Table)
নিচে এই প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য একটি ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রকল্পের নাম | ফ্রি এলপিজি সিলিন্ডার স্কিম |
| উদ্যোগ গ্রহণকারী | দিল্লি সরকার (মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা) |
| সুবিধা | বছরে দুটি বিনামূল্যে সিলিন্ডার (হোলি ও দীপাবলি) |
| আর্থিক বরাদ্দ | ৩০০ কোটি টাকা |
| অনুদান রাশি | প্রায় ৮৫০ টাকা (প্রতি সিলিন্ডার) |
| সুবিধা পাওয়ার মাধ্যম | ডিবিটি (সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার) |
| বেনিফিশিয়ারি সংখ্যা | প্রায় ১৭.১৮ লক্ষ পরিবার |
কীভাবে পাওয়া যাবে এই ফ্রি সিলিন্ডার?
অনেকেই ভাবছেন হয়তো সরকার বাড়ি বাড়ি সিলিন্ডার পৌঁছে দেবে, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকার ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ বা ডিবিটি পদ্ধতি বেছে নিয়েছে। অর্থাৎ, সুবিধাভোগীদের হাতে সরাসরি সিলিন্ডার তুলে দেওয়ার বদলে, সিলিন্ডারের সমপরিমাণ টাকা তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
আধিকারিকদের মতে, হোলি এবং দীপাবলির সময় প্রতিটি সিলিন্ডারের বাজারমূল্য অনুযায়ী (যা বর্তমানে প্রায় ৮৫০ টাকা ধরা হয়েছে) অর্থ সরাসরি উপভোক্তার আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং সঠিক মানুষের কাছেই টাকা পৌঁছাবে। পরিবারগুলোকে তাদের নিকটবর্তী গ্যাস এজেন্সি থেকে প্রথমে সিলিন্ডারটি বুক করতে হবে এবং কিনতে হবে। এরপর ভর্তুকির টাকা বা সিলিন্ডারের পুরো মূল্য সরকার তাদের অ্যাকাউন্টে ফেরত দেবে। উত্তর প্রদেশেও এই একই মডেল সফলভাবে চলছে, যা এবার দিল্লিতেও কার্যকর করা হচ্ছে।
বিনামূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়ার যোগ্যতা (Eligibility List)
এই সুবিধা পেতে হলে আপনাকে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে:
১. আবেদনকারীকে অবশ্যই দিল্লির স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
২. পরিবারের একটি বৈধ রেশন কার্ড থাকতে হবে।
৩. রেশন কার্ডের সাথে আধার কার্ডের লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক।
৪. আবেদনকারীর একটি সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে যা আধারের সাথে যুক্ত (DBT-এর জন্য)।
৫. পরিবারটিকে গণবণ্টন ব্যবস্থার অধীনে দরিদ্র শ্রেণীর তালিকাভুক্ত হতে হবে।
টাকা পাওয়ার জন্য করণীয় (Action Plan List)
আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা আসা নিশ্চিত করতে নিচের বিষয়গুলো এখনই চেক করে নিন:
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চেক করুন: আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি চালু আছে কি না তা নিশ্চিত করুন।
- আধার লিঙ্ক: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার কার্ডের লিঙ্ক করা না থাকলে দ্রুত ব্যাঙ্কে গিয়ে তা করিয়ে নিন।
- মোবাইল নম্বর আপডেট: গ্যাস এজেন্সিতে এবং ব্যাঙ্কে আপনার বর্তমান মোবাইল নম্বরটি আপডেট রাখুন, যাতে টাকা ঢোকামাত্রই এসএমএস পান।
দিল্লিবাসীর জন্য হোলির আগেই খুশির খবর
সরকার আশা করছে, হোলির আগেই প্রথম দফার এই সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। রঙের উৎসবে যাতে কোনো পরিবারের রান্নাঘরে উনুন জ্বালাতে সমস্যা না হয়, সেই মানবিক দিকটি বিবেচনা করেই এই দ্রুত পদক্ষেপ। বিনামূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার প্রকল্প চালু হওয়ার ফলে কেবল রান্নার খরচই বাঁচবে না, বরং উৎসবের আনন্দও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে যে সব পরিবারে রোজগার কম, তাদের কাছে ৮৫০ টাকার এই সাশ্রয় অনেক বড় স্বস্তি।
জনমনে সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
প্রশ্ন: দিল্লি সরকার কেন হঠাৎ এই বিনামূল্যে সিলিন্ডার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল?
দিল্লি সরকার রাজ্যের দরিদ্র পরিবারগুলোকে আর্থিক সুরাহা দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামের সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে হিমশিম খাওয়া মানুষদের মুখে হাসি ফোটানোই এর লক্ষ্য। বিশেষ করে হোলি ও দীপাবলির মতো বড় উৎসবে যাতে তারা চিন্তামুক্ত থাকতে পারেন, তাই বছরে দুটি সিলিন্ডার ফ্রি দেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়েছে।
প্রশ্ন: আমি যদি দিল্লির বাসিন্দা না হই, তবে কি এই সুবিধা পাব?
না, বর্তমানে এই নির্দিষ্ট প্রকল্পটি দিল্লি সরকার চালু করেছে। তাই এই স্কিমের সুবিধা শুধুমাত্র দিল্লির স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্যই প্রযোজ্য। তবে অন্যান্য রাজ্যেও (যেমন উত্তর প্রদেশ) অনুরূপ প্রকল্প চালু থাকতে পারে, যা সেই রাজ্যের নিয়মাবলীর ওপর নির্ভর করবে।
প্রশ্ন: সিলিন্ডারের টাকা কি হাতে হাতে পাওয়া যাবে?
না, সরকার কোনো নগদ টাকা হাতে দেবে না। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতিরোধে ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ (DBT) পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। হোলি ও দীপাবলির সময় সিলিন্ডারের সমপরিমাণ অর্থ সরাসরি আপনার আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
প্রশ্ন: কারা এই বিনামূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন?
দিল্লির অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া সেইসব মানুষ, যাদের কাছে বৈধ রেশন কার্ড রয়েছে এবং যারা সরকারি গণবণ্টন ব্যবস্থার (PDS) তালিকাভুক্ত, তারাই কেবল এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ, রেশন কার্ডের ডেটাবেসই এখানে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে।
