পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একটি অত্যন্ত আশার খবর উঠে আসছে। বিশেষ করে যারা যুবশ্রী প্রকল্পের আওতায় ভাতা পাওয়ার অপেক্ষা করছেন, তাঁদের জন্য এপ্রিল মাসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। দীর্ঘদিনের বকেয়া টাকা এবং নতুন করে আবেদনের প্রক্রিয়া নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তার জেরে অনেকেই দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, আগামী মাসেই রাজ্য সরকার যুবসাথী বা যুবশ্রী প্রকল্পের উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বকেয়া কিস্তির টাকা পাঠাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক নজরে
যুবশ্রী প্রকল্পের নতুন আপডেট এবং এপ্রিলের জোড়া কিস্তি
রাজ্যের বেকার তরুণ-তরুণীদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে শুরু হওয়া এই প্রকল্প বরাবরই জনপ্রিয়। তবে মাঝেমধ্যেই ভাতার টাকা ঢুকতে দেরি হওয়ার কারণে উপভোক্তাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। যুবশ্রী প্রকল্পের নতুন আপডেট অনুযায়ী, লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বা তার পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে ফেব্রুয়ারী বা মার্চ মাসের টাকা অনেকের অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়নি। সেই বকেয়া টাকা এপ্রিল মাসে একসাথে ঢুকতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
যদি সব ঠিকঠাক থাকে, তবে উপভোক্তারা এপ্রিল মাসে দু-মাসের ভাতা অর্থাৎ মোট ৩০০০ টাকা (প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে) একবারে পেয়ে যেতে পারেন। যদিও সরকারিভাবে এখনও নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, তবে নবান্ন সূত্রে খবর যে এই পেমেন্ট ফাইলগুলি দ্রুত ছাড়ার কাজ চলছে। যারা নিয়মিত এনাক্সার-৩ (Annexure-III) ফর্ম জমা দিয়েছেন, শুধুমাত্র তাঁরাই এই জোড়া কিস্তির সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য থাকবেন।
বেকার ভাতা নিয়ে প্রশাসনের তৎপরতা ও বর্তমান স্থিতি
রাজ্য জুড়ে প্রচুর আবেদনকারী বর্তমানে ওয়েটিং লিস্টে রয়েছেন। এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ বা এমপ্লয়মেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে যারা নাম নথিভুক্ত করেছেন, তাঁদের মনে একটাই প্রশ্ন— কবে মিলবে এই ভাতার সুবিধা? যুবশ্রী প্রকল্পের নতুন আপডেট থেকে জানা যাচ্ছে যে, নতুন করে যারা আবেদন করেছিলেন তাঁদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ জেলা স্তরে শুরু হয়েছে। তবে পুরনো উপভোক্তাদের বকেয়া মেটানোই এখন দপ্তরের প্রধান লক্ষ্য।
প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটি বা বাজেটের বরাদ্দের কিছু রদবদলের কারণে মাঝেমধ্যে এই অর্থপ্রদান বিলম্বিত হয়। তবে এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ায় গতি আসবে। উপভোক্তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যেন তাঁরা তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার লিঙ্ক এবং কেওয়াইসি (KYC) আপডেট করে রাখেন, যাতে টাকা ঢোকার ক্ষেত্রে কোনো টেকনিক্যাল সমস্যা না হয়। এই ভাতার মাধ্যমে রাজ্যের বেকার যুবক-তরুণীরা তাঁদের পড়াশোনা বা ছোটখাটো কাজের প্রশিক্ষণ নিতে সক্ষম হন।
যুবসাথী অ্যাপ্লিকেশন এবং নতুন তালিকায় নাম তোলার সম্ভাবনা
অনেকেই জানতে চেয়েছেন নতুন করে যুবসাথী বা যুবশ্রীতে নাম নথিভুক্ত করার সুবিধা কবে মিলবে। বর্তমান আপডেট অনুযায়ী, এমপ্লয়মেন্ট ব্যাংকের ওয়েবসাইটে নাম নথিভুক্তিকরণ সারাবছরই চালু থাকে। তবে ভাতার তালিকায় নাম উঠতে হলে নির্দিষ্ট ‘লিমিট’ বা কোটার প্রয়োজন হয়। যুবশ্রী প্রকল্পের নতুন আপডেট বলছে, খুব শীঘ্রই একটি নতুন ওয়েটিং লিস্ট প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাদের নাম অনেকদিন ধরে অপেক্ষায় রয়েছে, তাঁরা এই নতুন তালিকায় স্থান পেতে পারেন।
নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বয়সের যে মাপকাঠি রয়েছে, তা কঠোরভাবে পালন করা হবে। আপনি যদি অষ্টম পাশ বা তার বেশি শিক্ষিত হন এবং কর্মহীন থাকেন, তবেই এই প্রকল্পে আবেদনের যোগ্য। তবে মনে রাখবেন, পরিবারের কেবল একজন সদস্যই এই ভাতার সুবিধা পেতে পারেন। নতুন আবেদনের পোর্টাল খোলা এবং ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার বেশ কিছু প্রযুক্তিগত পরিবর্তনও আনতে চলেছে যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
যুবশ্রী প্রকল্প ও বেকার ভাতা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
এপ্রিল মাসে কি সত্যিই দু-মাসের টাকা একসাথে ঢুকবে?
নির্দিষ্ট কিছু মহলে আলোচনা চলছে যে বকেয়া এবং চলতি মাসের টাকা মিলিয়ে এপ্রিল মাসে জোড়া কিস্তি দেওয়া হতে পারে। তবে এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে রাজ্য অর্থ দপ্তরের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।
এনাক্সার-৩ ফর্ম জমা না দিলে কি টাকা পাওয়া যাবে?
না, যুবশ্রী প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস অন্তর এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে এনাক্সার-৩ ফর্ম জমা দিয়ে প্রমাণ করতে হয় যে আপনি এখনও বেকার এবং কোনো স্থায়ী চাকরিতে নিযুক্ত নন। এটি না করলে ভাতা বন্ধ হয়ে যায়।
এমপ্লয়মেন্ট ব্যাংকে নাম থাকলেই কি মাসে ১৫০০ টাকা পাওয়া যায়?
না, নাম নথিভুক্ত থাকা মানেই ভাতা পাওয়া নয়। নাম নথিভুক্ত করার পর যখন সরকারি তালিকার সিরিয়াল অনুযায়ী আপনার নাম ‘ভাতা’ বা ‘যুবশ্রী’ প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবে, তখনই টাকা পাওয়া শুরু হবে।
নতুন আবেদন করার জন্য কী কী নথি প্রয়োজন?
আবেদনকারীর আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট এবং অবশ্যই ব্যাংকের পাসবইয়ের কপি প্রয়োজন। এছাড়া আবেদনকারীর একটি সচল মোবাইল নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক।
যুবশ্রী প্রকল্পে ভাতার ভবিষ্যৎ এবং আবেদনকারীদের করণীয়
রাজ্যের অনেক যুবক-যুবতী এই ভাতার ওপর নির্ভর করে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির কোর্স করে থাকেন। সরকারের তরফ থেকে এই প্রকল্পের নাম ‘যুবশ্রী’ রাখা হলেও অনেকে একে বেকার ভাতা বা যুবসাথী প্রকল্প হিসেবেও চিনে থাকেন। যুবশ্রী প্রকল্পের নতুন আপডেট অনুযায়ী, যারা ইতিমধ্যে টাকা পাচ্ছেন তাঁরা যেন অবশ্যই তাঁদের প্রোফাইল স্ট্যাটাস চেক করেন। যদি ‘Live’ স্ট্যাটাস থাকে, তবে এপ্রিল মাসে টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।
পরিশেষে বলা যায়, এপ্রিল মাসে বকেয়া মেটানোর খবরটি যদি বাস্তব রূপ নেয়, তবে হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতীর মুখে হাসি ফুটবে। আপাতত নতুন আপডেটের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে এমপ্লয়মেন্ট ব্যাংকের অফিশিয়াল পোর্টালে। যদি কোনো কারণবশত আপনার পেমেন্ট আটকে থাকে, তবে নিকটবর্তী এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ অফিসে যোগাযোগ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সরকারি এই সাহায্য সঠিক সময়ে পৌঁছে দেওয়াই এখন প্রশাসনের মূল চ্যালেঞ্জ।
