পশ্চিমবঙ্গ বকেয়া ডিএ: সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও নীরব রাজ্য, ২৬ ফেব্রুয়ারি কালীঘাট অভিযানের ডাক

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও মহার্ঘ ভাতা না মেলায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করল সরকারি কর্মীরা। আগামী ২৬শে ফেব্রুয়ারি কালীঘাট অভিযানের ডাক দিয়েছেন তারা।

West Bengal Pending DA: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত পশ্চিমবঙ্গ বকেয়া ডিএ নিয়ে এবার জল গড়ালো অনেক দূর। সুপ্রিম কোর্টে জয়লাভ করার পরেও রাজ্য সরকারের দীর্ঘ নীরবতা সরকারি কর্মীদের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এবার সরাসরি প্রশাসনিক প্রধানের বাসভবন অর্থাৎ কালীঘাট অভিযানের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আগামী ২৬শে ফেব্রুয়ারি এই বিরাট আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যার ফলে প্রশাসনের উপর জোড়া চাপ সৃষ্টি হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এক নজরে

​রাজ্য সরকারের দীর্ঘ নীরবতা এবং পশ্চিমবঙ্গ বকেয়া ডিএ আন্দোলনকারীদের নতুন রণকৌশল

​দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন বলে অভিযোগ। দিনের পর দিন তারা রাস্তায় বসে রোদ, ঝড়, বৃষ্টি উপেক্ষা করে আন্দোলন করেছেন, আইনি লড়াই চালিয়েছেন, কিন্তু তবুও কাঙ্ক্ষিত সমাধান অধরা থেকে গেছে। সম্প্রতি দেশের শীর্ষ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পক্ষে একটি যুগান্তকারী রায় দিলেও, সেই রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজ্য সরকারের এই নীরবতা ও উদাসীনতা কর্মীদের মনে এক গভীর হতাশা এবং তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

​এই জটিল পরিস্থিতিতে কর্মচারীরা আর চুপ করে ঘরে বসে থাকতে রাজি নন। তারা গভীরভাবে মনে করছেন, দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ে আইনি জয়ের পরেও যদি তাদের পাওনা গণ্ডা না মেটানো হয়, তবে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা ছাড়া তাদের কাছে আর কোনো বাস্তবসম্মত উপায় নেই। তাই এখন তারা অত্যন্ত সংগঠিতভাবে পরবর্তী কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছেন। এই লড়াই শুধু মাত্র আর্থিক পাওনার নয়, আন্দোলনকারীদের মতে এটি এখন রাজ্য সরকারি কর্মীদের হারানো সম্মান এবং অধিকার আদায়ের এক বৃহত্তর ও মর্যাদাপূর্ণ সংগ্রামে পরিণত হয়েছে।

​শীর্ষ আদালতে জয়লাভের পরেও কেন মিলছে না রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা?

​সুপ্রিম কোর্টের অত্যন্ত স্পষ্ট এবং কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার এখনো পর্যন্ত রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা মেটানোর কোনো সদর্থক উদ্যোগ নেয়নি। শীর্ষ আদালতের চূড়ান্ত রায় অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়ার ১০০ শতাংশই সম্পূর্ণভাবে মেটাতে হবে। এমনকি আদালতের নির্দেশে এও বলা হয়েছিল যে, এর মধ্যে ২৫ শতাংশ যেন অবিলম্বে কর্মীদের মিটিয়ে দেওয়া হয়। বাকি যে অংশটি পড়ে থাকবে, তা কীভাবে মেটানো হবে, তা নিয়ে আগামী ৬ই মার্চের মধ্যে রাজ্যকে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।

​কিন্তু আদালতের এই সুস্পষ্ট এবং সময়ভিত্তিক নির্দেশের পরেও প্রশাসনিক স্তরে কোনো রকম তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সরকার কোনো উচ্চবাচ্য না করায় এবং সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করায়, বাধ্য হয়েই সরকারি কর্মীরা আবার আইনি পথ এবং রাজপথ—উভয় ক্ষেত্রেই নিজেদের লড়াই সমানতালে জোরদার করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ বকেয়া ডিএ নিয়ে সরকারের এই দীর্ঘ এবং রহস্যময় নীরবতা পরিস্থিতিকে প্রতিদিন আরও বেশি করে জটিল এবং উত্তপ্ত করে তুলছে।

​রাজপথে আন্দোলনের ঝাঁঝ কয়েকগুণ বাড়াতে আগামী ২৬শে ফেব্রুয়ারি ‘কালীঘাট চলো’ ডাক

​সুপ্রিম কোর্টে বহু প্রতীক্ষিত জয় মেলার পরেও কার্যক্ষেত্রে কোনো সুরাহা না হওয়ায়, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতৃত্বে সরকারি কর্মীরা এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় গিয়ে নিজেদের দাবিদাওয়া জানানোর এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী ২৬শে ফেব্রুয়ারি ঠিক দুপুর ১২:৩০ মিনিটে তারা ‘কালীঘাট চলো’ নামক এক বিশাল অভিযানের ডাক দিয়েছেন। এই বিরাট অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো, সরাসরি প্রশাসনিক প্রধানের বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছে নিজেদের চরম দুর্দশা, ক্ষোভ এবং বঞ্চনার কথা প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দেওয়া।

​আন্দোলনকারী কর্মীদের মতে, আদালতের রায়ের পর এতগুলো দিন কেটে যাওয়ার পরেও যখন সরকার কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না, তখন রাস্তায় নেমে আন্দোলনের তীব্রতা কয়েকগুণ বাড়ানো ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প খোলা নেই। এই ‘কালীঘাট চলো’ অভিযান সফল করতে রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মীরা এখন ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন এবং আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ বকেয়া ডিএ ইস্যুতে তারা যে কোনো ধরনের বড় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবেন না, তা একেবারে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।

বিষয়সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশবর্তমান পরিস্থিতি
মোট বকেয়া পরিশোধবকেয়ার ১০০ শতাংশই রাজ্যকে মেটাতে হবেরাজ্য সরকার এখনও কোনো সদর্থক পদক্ষেপ নেয়নি
অবিলম্বে প্রদানযোগ্য অংশবকেয়ার ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবেকর্মীদের ব্যাংক একাউন্টে এখনও কোনো টাকা আসেনি
সময়সীমা ও ডেডলাইনবাকিটা মেটানোর সিদ্ধান্ত ৬ই মার্চের মধ্যে নিতে হবেসরকার সম্পূর্ণ নীরব, কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়নি
আইনি নোটিশের জবাবমুখ্যসচিব ও অর্থসচিবকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিলপ্রশাসনের তরফ থেকে নোটিশের কোনো উত্তর মেলেনি

শুধুমাত্র বকেয়া মহার্ঘ ভাতা আদায় নয়, এই আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে রয়েছে আরও একাধিক দাবি

​আগামী ২৬শে ফেব্রুয়ারির এই মেগা অভিযান শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ বকেয়া ডিএ আদায়ের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আন্দোলনকারী সরকারি কর্মচারীদের আরও বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি রয়েছে, যা তারা এই অভিযানের মাধ্যমে সরাসরি প্রশাসনের সামনে তুলে ধরতে চাইছেন। বছরের পর বছর ধরে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যে সমস্ত যোগ্য অথচ অনিয়মিত কর্মীরা কাজ করে চলেছেন, তাদের দ্রুত স্থায়ীকরণের দাবি অত্যন্ত জোরালোভাবে জানানো হয়েছে।

​পাশাপাশি, রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৬ লক্ষ শূন্যপদ রয়েছে বলে দাবি করেছেন এই সমস্ত কর্মীরা। এই বিপুল সংখ্যক শূন্যপদে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং স্থায়ীভাবে নিয়োগ করার দাবিও তারা তুলেছেন। তাদের সুস্পষ্ট যুক্তি হলো, একদিকে যেমন কর্মরত কর্মচারীদের ডিএ মামলা দিনের পর দিন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, অন্যদিকে ঠিক তেমনি বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগও নষ্ট হচ্ছে। তাই রাজ্যের এই সার্বিক অচলাবস্থা কাটাতে তারা এবার পথে নামতে বাধ্য হচ্ছেন।

​কর্মীদের অন্যান্য প্রধান দাবিগুলি নিচে তালিকাভুক্ত করা হলো:

  • ​সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে অবিলম্বে রাজ্য সরকারি কর্মীদের সম্পূর্ণ পাওনা মিটিয়ে দেওয়া।
  • ​রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত যোগ্য, অভিজ্ঞ ও দীর্ঘদিন ধরে পরিষেবা দেওয়া অনিয়মিত কর্মীদের দ্রুত স্থায়ী করা।
  • ​রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে পড়ে থাকা প্রায় ৬ লক্ষ শূন্যপদে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে স্থায়ীভাবে কর্মী নিয়োগ করা।

​শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কনটেম্পট অফ কোর্ট মামলা

​নিজেদের আইনি লড়াইকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং সরকারকে চাপে ফেলতে গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে একটি ‘কনটেম্পট অফ কোর্ট’ বা আদালত অবমাননার পিটিশন দাখিল করেছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তাদের প্রধান অভিযোগ হলো, দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় একটি সুস্পষ্ট এবং সময়ভিত্তিক নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও রাজ্য সরকার তা কোনোভাবেই পালন করছে না। আইনি পরিভাষায় এটি সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের অবমাননার সামিল বলে তারা মনে করছেন।

​এই কড়া আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা সরকারকে আইনগত দিক থেকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলতে চাইছেন। পশ্চিমবঙ্গ বকেয়া ডিএ আদায়ের জন্য একদিকে যেমন রাজপথে বড় জমায়েত এবং স্লোগান হবে, তেমনি আইনি পথেও সরকারকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ এই সমস্ত আন্দোলনকারীরা। এই রাজপথ এবং আইনি ব্যবস্থার জোড়া চাপের মুখে পড়ে রাজ্য প্রশাসন আগামী দিনে ঠিক কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন রাজ্যবাসীর কাছে সবচেয়ে বড় দেখার বিষয়।

​সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষের কড়া বার্তা এবং আগামী দিনের হুঁশিয়ারি

​পরিস্থিতি যখন ক্রমশ উত্তপ্ত এবং জটিল হয়ে উঠছে, তখন বকেয়া মহার্ঘ ভাতা ইস্যুতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ। তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানিয়েছেন যে, তারা ইতিমধ্যেই আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেছেন এবং তারা দৃঢ়ভাবে আশা করছেন খুব তাড়াতাড়ি এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি সুপ্রিম কোর্টে উঠবে। আইনি দিক থেকে সরকারকে সম্পূর্ণভাবে কোণঠাসা করার কাজ তারা ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

​ভাস্কর ঘোষ আরও পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে, আগামী দিনে বৃহত্তর কর্মচারী ঐক্য গড়ে তুলে এই একই দাবিতে আরও জোরালোভাবে পথে নামবেন তারা। সেই বিষয়েও খুব তাড়াতাড়ি মঞ্চের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে। অর্থাৎ, চারিদিক থেকে রাজ্য সরকারকে চাপে ফেলার এক সুপরিকল্পিত ছক কষেছেন ক্ষুব্ধ কর্মীরা। পশ্চিমবঙ্গ বকেয়া ডিএ ইস্যুতে এই ধরনের কড়া হুঁশিয়ারি এবং আল্টিমেটাম রাজ্য সরকারের চিন্তা নিঃসন্দেহে আরও অনেক গুণ বাড়িয়ে দেবে।

​কেন বার বার শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে রাজ্যের কর্মীদের? এর পেছনের মূল কারণগুলি হলো:

১. সুপ্রিম কোর্টের প্রথম চূড়ান্ত রায়ের পর রাজ্য সরকারের তরফে তা কার্যকর করার কোনো রকম সদিচ্ছা না দেখানো।

২. রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবকে আইনজীবীর মাধ্যমে দেওয়া আইনি নোটিশের কোনো উত্তর না পাওয়া।

৩. আদালতের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ২৫ শতাংশ কর্মীদের একাউন্টে না মেটানো।

​মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবকে আইনি নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও ফের সুপ্রিম কোর্টে কর্মীরা

​সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় সরকারি কর্মচারীদের পক্ষে আসার পর, তাদের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবকে একটি বিস্তারিত আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কর্মীদের মনে গভীর আশা ছিল যে, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর অন্তত প্রশাসনিক স্তরে কিছু নড়াচড়া দেখা যাবে এবং সেই আইনি নোটিশের একটি সদর্থক উত্তর মিলবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটেনি এবং প্রশাসন নীরব থেকেছে।

​এই আইনি নোটিশের কোনো উত্তর না মেলায় চরম হতাশ এবং ক্ষুব্ধ হন কর্মীরা। সরকারের এই নীরবতাকে তারা আইনের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবেই দেখছেন। আর ঠিক সেই কারণেই তারা বাধ্য হয়ে ফের একবার দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় সুপ্রিম কোর্টের দরজা খটখটিয়েছেন। সরকারি কর্মচারীদের পাওনা নিয়ে এই দীর্ঘ টালবাহানা রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকেই আজ প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ বকেয়া ডিএ নিয়ে এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা ঠিক কবে কাটবে, তার কোনো স্পষ্ট উত্তর আজ কারও কাছেই নেই।

​কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর

​সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ বকেয়া ডিএ নিয়ে চূড়ান্ত কী রায় দিয়েছে?

​সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে যে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়ার ১০০ শতাংশই রাজ্য সরকারকে মেটাতে হবে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ অবিলম্বে কর্মীদের দিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাকি বকেয়া অংশটি ঠিক কীভাবে এবং কবে মেটানো হবে, সেই বিষয়ে আগামী ৬ই মার্চের মধ্যে রাজ্য সরকারকে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

​সরকারি কর্মচারীরা আগামী ২৬শে ফেব্রুয়ারি কী কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন?

​দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর না হওয়ায় এবং সরকার নীরব থাকায়, রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা আগামী ২৬শে ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২:৩০ মিনিটে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন অর্থাৎ ‘কালীঘাট চলো’ অভিযানের ডাক দিয়েছেন। এই মেগা অভিযানের মাধ্যমে তারা তাদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং বকেয়া দাবিদাওয়া প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দিতে চাইছেন।

​সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ কেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করল?

​দেশের শীর্ষ আদালত বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিলেও রাজ্য সরকার সেই রায় কার্যকর করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি এবং কর্মীদের পাঠানো আইনি নোটিশেরও কোনো উত্তর দেয়নি। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ অমান্য করার কারণে এবং সরকারকে আইনগত দিক থেকে চাপে ফেলার জন্যই গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে ‘কনটেম্পট অফ কোর্ট’ বা আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।

​আর্থিক পাওনার পাশাপাশি আন্দোলনকারী কর্মীদের আর কী কী দাবি রয়েছে?

​বকেয়া আর্থিক পাওনা মেটানোর পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের অন্যতম মূল দাবি হলো, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করা যোগ্য কিন্তু অনিয়মিত কর্মীদের অবিলম্বে স্থায়ী পদে বহাল করতে হবে। এছাড়া, রাজ্যে পড়ে থাকা প্রায় ৬ লক্ষ শূন্যপদে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং মেধার ভিত্তিতে স্থায়ীভাবে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ করতে হবে।

​উপসংহার এবং রাজ্যের আগামী দিনের পরিস্থিতি পর্যালোচনা

​পরিশেষে খুব সহজেই বলা যায় যে, রাজ্য সরকারি কর্মীদের এই দীর্ঘ এবং ক্লান্তিকর লড়াই এখন এক নির্ণায়ক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। একদিকে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়, অন্যদিকে রাজপথে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে লাগাতার আন্দোলন—সব মিলিয়ে রাজ্য সরকার এখন এক অভূতপূর্ব চাপের মুখে। পশ্চিমবঙ্গ বকেয়া ডিএ ইস্যুটি এখন আর শুধু সরকারি দপ্তরের ধুলো জমা ফাইলে বন্দী নেই, এটি এখন গোটা রাজ্যের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

​আগামী ২৬শে ফেব্রুয়ারির বহুল চর্চিত কালীঘাট অভিযান কতটা সফল হয় এবং সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া আদালত অবমাননার মামলার কী রায় আসে, তার ওপরই পুরোপুরি নির্ভর করছে রাজ্যের ডিএ সমস্যা সমাধানের ভবিষ্যৎ। রাজ্যের সাধারণ মানুষও এই পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন, কারণ এই বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ পূরণ এবং কর্মীদের পাওনা মেটানোর বিষয়টি রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানের ওপরও এক গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Created with ❤
Exit mobile version